শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভালো অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন লাক্স সুপারস্টার জাকিয়া বারী মম। থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম সিনেমা ‘দারুচিনি দ্বীপে’র জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এখন নাটক, সিনেমা ও ওয়েবে সমানতালে কাজ করছেন। সেই ২০০৬ সাল থেকে ক্যামেরার সামনে অভিনয় শুরু করেছেন। এই দীর্ঘ যাত্রায় একটা সময় তার মনে হয়েছে নতুন কিছু করা দরকার। টিভি নাটকের নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার জন্য মনের মতো সব কাজ করা যাচ্ছিল না। তাই তিনি টিভিতে কাজ কমিয়ে দিয়ে মন দেন গল্পনির্ভর সিনেমায়। এখন এই অভিনেত্রীর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম। দেশি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম তো আছেই, ভারতের জি ফাইভ ও কলকাতার হইচইয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। এখন এই অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়া ও শোবিজ তারকাদের প্রশংসায় ভাসছেন আশফাক নিপুণের ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’-এ অভিনয়ের জন্য। হইচইয়ে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি। এর আগে জি ফাইভের তারকাবহুল ওয়েব সিরিজ ‘কন্ট্রাক্ট’-এও কাজ করেছেন তিনি। তৌকীর আহমেদের স্ফুলিঙ্গতেও তাকে দেখা গেছে নতুন এক চরিত্রে।
সাম্প্রতিক কাজগুলো নিয়ে মম বলেন, ‘আমি বেশ তুষ্ট। তবে শিল্পী হিসেবে পরিপূর্ণ তৃপ্তি কখনোই আসে না। আরও অনেক ধরনের চরিত্র করতে চাই। ভালো পরিচালকের, ভালো গল্পের সঙ্গী হতে চাই। তবে আমি সৌভাগ্যবান যে আমার এখনকার কাজগুলো আমার শিল্পসত্তাকে অনেকটাই প্রশান্ত করছে। আর কাজগুলো ভালো হচ্ছে বলেই দর্শক পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে; বিশেষ করে হইচইয়ে যে কনটেন্টগুলো মুক্তি পাচ্ছে, সেগুলো তো দর্শক টাকা খরচ করে দেখছেন। আগে সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে হতো, এখন নিজের সুবিধামতো সময়ে ঘরে বসে দেখছেন। ফলে এই অর্জনকে খাটো করে দেখার কিছু নেই।’
মম নিজেকে আরও সৌভাগ্যবান মনে করেন তার সহশিল্পীদের ভালোবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সহকর্মীরা আমাকে প্রতিটি কাজে দারুণভাবে উৎসাহ দেন। কাজ ভালো লাগলে নির্দ্বিধায় আমাকে বলেন। মহানগরের জন্যও অনেকের প্রশংসা পেয়েছেন। গতকালই ফোন করেছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। এ ছাড়া ইরেশ যাকের, সাবেরী আলম, সুমন আনোয়ার, সুষমা সরকারসহ অনেকেই ফোন করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন।’
মহানগরের মম একজন পুলিশ অফিসার। আবার স্ফুলিঙ্গতে একজন উচ্চবিত্ত ঘরের অন্তর্দ্বন্দ্বে ভোগা তরুণী। যে ভালোবাসার কাঙাল। এ ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ফুটিয়ে তোলা প্রসঙ্গে মম বলেন, প্রতিটি চরিত্রই আসলে অভিনেতার দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি চরিত্রের আলাদা সংঘর্ষ, টানাপড়েন আছে। এই দুটি চরিত্রের কথা বলতে গেলে, আমার পরিচিত একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা আছেন। তাকে দেখে অনেকটা ডেভেলপ করেছি। আর স্ফুলিঙ্গের মেয়েটিও আমার দেখা চরিত্র। এ ধরনের চরিত্র সমাজে খোলামেলাভাবে নিজেকে মেলে না ধরলেও আমি যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তাই তার চরিত্র ধারণ করতে সহজ হয়েছে। তা ছাড়া পরিচালকের একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে চরিত্রটি নিয়ে। দুটি মিলিয়েই পর্দায় তুলে ধরেছি। দর্শক যেহেতু পছন্দ করেছেন, সুতরাং আমি দর্শকের সঙ্গে একমত পোষণ করেই বলতে চাই, ‘আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।’
নাটক কম করলেও ঈদে মমকে টিভি নাটকে একেবারেই দেখা যাবে না এমন হতে পারে না। তিনি বললেন, ‘এত দিন ধরে টিভিতে অভিনয় করেই তো টিকে আছি। সেখানে অনেক বন্ধুবান্ধব তৈরি হয়েছে। তাই চাইলেই একেবারে টিভিকে বাদ দিতে পারি না। অনেক বেছে কাজ করছি; বিশেষ করে কাছের বন্ধুদের অনুরোধ ফেলতে পারিনি। তবে সংখ্যাটা একেবারেই কম। হয়তো ৪-৫টি নাটক প্রচার হবে। এর মধ্যে কাজ করেছি মাবরুর রশিদ বান্নাহর খ- নাটক ‘মায়ের ডাক’-এ। এতে সহশিল্পী তাহসান খান, তৌসিফ মাহবুব, জোভান, তাসনিয়া ফারিন, কেয়া পায়েল। এ ছাড়া সকাল আহমেদের পরিচালনায় মোশাররফ করিমের সঙ্গে একটি কাজ করেছি।’
মম আর বাঁধন একই সঙ্গে ২০০৬ সালে লাক্স তারকা হিসেবে পথচলা শুরু করেন শোবিজে। বাঁধন এখন দেশের সিনেমা নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগদানের অপেক্ষায়। এ নিয়ে মম বলেন, ‘বাঁধন আপুকে তো দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক সব সময়ই ভালো। শুধু বাঁধন আপু নয়, বিন্দু, অপর্ণা ঘোষ, মুনমুন আমাদের ব্যাচের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তারা ভালো মানুষ বলেই এত দিন সম্পর্কটা টিকে আছে। তাদের যেকোনো অর্জনই আমার কাছে আনন্দের বিষয়। তাই বাঁধন আপু এবং রেহানা মরিয়ম নূরের পুরো টিমকে আমার পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ। তারা আমাদের সিনেমাকে বিশে^র কাছে সম্মানের সঙ্গে নিয়ে গেছে।’